টাঙ্গাইলের মধুপুরে দিন দিন বাড়ছে পেয়ারা চাষ। লাভজনক হওয়ায় এটি চাষে কৃষকদের মাঝে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিজেদের জমি না থাকলেও জমি বন্ধক নিয়ে পেয়ারা বাগান করছেন কৃষকরা। পেয়ারা চাষিরা জানান, মধুপুরে যে পরিমাণ পেয়ারার বাগান রয়েছে তা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জেলার বাইরে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।
মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এবছর ৪৫৮ হেক্টর জমিতে পেয়ারা বাগান রয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় এবছর ১৯ হেক্টর বেশি। মধুপুরে মোট ৪৫৯ হেক্টর জমিতে পেয়ার চাষ করা হয়েছে।
পেয়ারা চাষি মো. মাসুদ হাসান বলেন, আমি ইউটিউব দেখে চুয়াডাঙ্গা থেকে ১৫০০ গোল্ডেন এইট নামের পেয়ারার চারা এনে বাগান শুরু করি। প্রতিটি চারা ৪২ টাকা করে ক্রয় করি। এখন আমার বাগানে পেয়ারা গাছ রয়েছে প্রায় ৩হাজার ৫শত। বর্তমানে ১৩ বিঘা জমিতে আমি গোল্ডেন এইট পেয়ারার চারা রোপন করেছি। আমার খরচ হয়েছে ৭ লক্ষ টাকা। এ বছর আশা করছি ২৮ থেকে ৩০ লক্ষ টাকার পেয়ারা বিক্রি করতে পরাবো।
বাগান থেকে বর্তমানে ৪ হাজার টাকা মণ হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বাগানে এসে পেয়ারা কিনে নিয়ে যান। বিক্রি নিয়ে কোনো সমস্যা হয় না। গত বছর সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২শত টাকা মণ বিক্রি করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত এ বাগান থেকে ১০ লাখ টাকার পেয়ারা বিক্রি হয়েছে। বাগানে নিয়মিত ৬ জন শ্রমিক কাজ করেন। শ্রমিকদের প্রতিদিন ৭ শত টাকা মজুরি দিতে হয়।
উপসহকারী কৃষি অফিসার জোবায়ের হোসেন জানান, মধুপুরে লাল মাটিতে যে কোন ফসলের জন্য উপযোগী আনারস, কলা, পেঁপে, আদা, কচু, বিভিন্ন ফসল চাষ হয়ে থাকে। এবছর আমার ব্লকে ৪০ হেক্টর জমি গোল্ডেন এইট থাই পেয়ারা আবাদ হয়েছে। আমি পোকা মাকড় থেকে রক্ষা করার জন্য কৃষকদের নানা ধরনের পরামর্শ দিয়ে থাকি। যাতে করে কৃষক পেয়ারা চাষ করে ভালো লাভবান হতে পারে।
মধুপুর উপজেলার বেরিবাইদ গ্রামের মো. পারভেজ জানান, আমি এবার ২০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে পেয়ারা বাগান করেছি। নিজের বসবাসের জন্য বাড়ি ছাড়া চাষাবাদের কোনো জমি নেই।
একই গ্রামের পেয়ারা চাষি মো. মালেক খান বলেন, এলাকায় অন্যান্যদের দেখাদেখি গত তিন বছর থেকে পেয়ারা চাষ করছি। পাঁচ বছরের জন্য ২০ হাজার টাকা বিঘা হিসেবে ১৫ বিঘা জমিতে পেয়ারার বাগান করেছি। যা প্রতি বিঘাতে ৩০০ করে গাছ লাগানো যায়। ১৫ বিঘাতে চার হাজার গাছ রয়েছে। পেয়ারার প্রধান সমস্যা পোকার আক্রমণ। এ কারণে অনেক পেয়ারা নষ্ট হয়ে যায়। সেগুলো অর্ধেক দামে বিক্রি করতে হয়।
১০-১২ দিন পরপর ৬০০-৭০০ টাকার কীটনাশক স্প্রে করতে হয়। বর্তমানে প্রকারভেদে ৩৮০০ টাকা মণ হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। যখন পেয়ারার উৎপাদন বেশি হয়, তখন ৩২০০ টাকা মণ বিক্রি হয়। আমরা যে পরিমাণ পেয়ারা উৎপাদন করি তা মধুপুরের চাহিদা মিটিয়ে জেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করছি।
পেয়ারার বাগানের শ্রমিক আবু হানিফ, মফিজ উদ্দিন, সালম জানান, আমাদের এলাকায় বড় বড় কয়েকটি পেয়ারার বাগান গড়ে উঠেছে। বছরের অধিকাংশ সময়ই আমরা সেখানে কাজ করি। সারা বছর পেয়ারা বাগানে কাজ করে তাদের সংসার চলে।
উপজেলা কৃষি কমকর্তা রকিব আল রানা বলেন, মৌসুমী ফলের মধ্যে পেয়ারা বেশ পুষ্টিকর ফল। স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে পেয়ারা খেলে প্রচুর লাভ। পেয়ারা ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ ফল। লাভজনক হওয়ায় পেয়ারার আবাদ প্রতি বছরই বাড়ছে। বাজারে এখন দামও ভালো। পেয়ারা চাষে চাষিদের উৎসাহিত করছি। কৃষকদের সব ধরণের পরামর্শ দিয়ে আসছি যাতে করে কৃষকরা ভালো ফলন পায় এবং বেশি দাম নিয়ে বাজারে বিক্রি করতে পারে।