ঢাকা | 08 February 2026

টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) হরিণ ছুটছে তীব্র গতিতে ॥ চ্যালেঞ্জের মুখে ধানের শীষ-দাড়িপাল্লা

স্টাফ রিপোর্টার, .
নিউজ প্রকাশের তারিখ :Feb 8, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: ছবির ক্যাপশন:
ad728
টাঙ্গাইলের বহুল আলোচিত সংসদীয় আসন টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর)। এই আসনে বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম নির্বাচন করেন বলেই সর্বমহলের দৃষ্টি থাকে এই আসনের দিকে। বরাবরের মতো এবারও তার ব্যাতিক্রম নয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলকে ঘিরে জন্ম নেওয়া আলোচনা বেগবান করেছে বঙ্গবীরের যুক্ততা। এই গতির মাত্রা বাড়িয়েছে বিএনপির একাংশ, সামাজিক সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের একাট্টা হওয়ার পাশাপাশি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের ব্যক্তিগত কল্যাণকর কর্ম। ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীরের প্রতীক হরিণ ছুটছে তীব্র গতিতে। এই আসনে দাড়িপাল্লা জয়ের মালা অর্জন করে গড়তে চাচ্ছে ইতিহাস। দুইয়ের প্রতিযোগিতায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ধানের শীষ।

জানা যায়, বাসাইল-সখীপুরের ২টি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে ঘটিত আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৪ হাজার ৮২৬ জন। এই আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ প্রতিদ্বন্দ্বী। তাঁরা হলেন বিএনপি ও শরীক দলের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আহমেদ আযম খান। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান। ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লা মার্কায় মো: শফিকুল ইসলাম খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য। স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল। সিআইপি মর্যাদার এই ব্যবসায়ি হরিণ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। এছাড়াও বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আওয়াল মাহমুদ  (কোদাল), জাতীয় পার্টির মো. নাজমুল হাসান (লাঙ্গল) ও আমজনতার দলের মো. আলমগীর হোসেন (প্রজাপতি) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এঁদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির আহমেদ আযম খান, জামায়াতের শফিকুল ইসলাম খান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল। গত ৩৫ বছরের হিসেবে এই আসনে কৃষক শ্রমিক জনতালীগের কাদের সিদ্দিকী একবার ছাড়া বাকি সবকটি সংসদ নির্বাচনেই আওয়ামীলীগ প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। এবার আওয়ামীলীগ শূন্য আসনটি বিএনপি-জামায়াত উভয়েই তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। দুই দলের মাঝে বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এই আসনে জয়-পরাজয়ের ফ্যাক্টর হলো কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সুপ্ত ভোটাররা।

প্রার্থীদের মধ্যে বাসাইল উপজেলার বাসিন্দা বিএনপির আহমেদ আযম খান ও জামায়াতের শফিকুল ইসলাম খান। অপরদিকে সখীপুর উপজেলার বাসিন্দা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল। এই দুই উপজেলার মধ্যে বাসাইলের চেয়ে সখীপুর উপজেলায় লক্ষাধিক ভোট বেশি রয়েছে। তারপর সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের সাথে যুক্ত হয়েছে বাসাইলের মনির হোসেন মনা ও সখীপুর উপজেলার শেখ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপির একাংশ। এরপর বড় নিয়ামক হিসেবে সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনী মাঠে হরিণ মার্কার ভোট প্রার্থনা করছেন কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সভাপতি ও এই আসনের সাবেক এমপি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী সংগঠন ও গ্রামীণ জনপদের সমাজপতিরা তার সাথে যুক্ত হয়েছেন।

তাদের সমর্থনও সালাউদ্দিন আলমগীরের দিকে। এছাড়া কয়েকযুগ ধরে সালাউদ্দিন আলমগীরের সামাজিক কর্মকান্ডের যুক্ততা তাকে মানবিক মানুষ হিসেবে পরিচিত করে তুলেছে। চতুর্মূখী প্রচেষ্টা আর সালাউদ্দিন আলমগীরের ব্যক্তিগত কল্যাণমুখী কর্মকান্ড হরিণ মার্কার অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। ফলে জয়ের দিকে তীব্রগতিতে ছুটে চলছে হরিণ মার্কা। জনপ্রিয়তা ও আঞ্চলিকতার প্রভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন অন্য প্রার্থীরা। এসবই জানিয়েছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।

এ ব্যাপারে সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের অনুসারি সখীপুর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি বহিষ্কৃত নেতা নাসির উদ্দিন বলেন, আমাদের স্বতন্ত্র প্রার্থীর হরিণ মার্কা জনতার মার্কায় পরিণত হয়েছে। প্রতিটি ভোটার হরিণের কর্মীতে পরিণত হয়েছে। বাসাইল-সখীপুরবাসী ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে আমাদেরকে সম্মানজনক ভোটের ব্যাবধানে বিজয়ী করবে।

এদিকে নির্বাচনের আগে দলীয় কোন্দল, নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন ও প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে বড়ধরণের হোচট খেয়েছেন আহমেদ আযম খান। তারপরও আওয়ামীলীগের দূর্গখ্যাত বাসাইল-সখীপুরের আসন বিএনপি পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বারবার বিএনপি এই আসনে হেরে যাওয়ার পর এবার অনেক শক্তিশালী হয়ে আহমেদ আযম নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। একটি বারের জন্য ভোট দিয়ে এমপি নির্বাচিত করার জন্য ভোটারদের নিকট আবেদন জানাচ্ছেন তিনি। দলীয় কর্মীদের শৃঙ্খলায় এনে খুব জোরেশোরে চালাচ্ছেন প্রচারণা। কৃষক শ্রমিক জনতালীগের কিছু নেতাকর্মীকেও আহমেদ আযম কাছে টানতে পেড়েছেন।
সখীপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন মাস্টার বলেছেন, প্রভাবশালী দুএকজন নেতা স্বতন্ত্রকে সমর্থন করায় তাদের আদর্শের চ্যুতি ঘটেছে। ফলে তাদের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপির সাথে যুক্ত হয়ে জনসংযোগকে বেগবান করেছেন। ফলশ্রুতি বাসাইলের ৮০ ভাগ ভোট ধানের শীষ পাবে। অপরদিকে সখীপুরের ৫টি ইউনিয়নে প্রথম হবে ধানের শীষ। বাকীগুলোতেও সমান্তরাল অবস্থা বিরাজ করছে। সবমিলিয়ে আহমেদ আযম খান নিরঙ্কুশ ভোটে জয়লাভ করবে। ভবিষ্যতে তিনি মন্ত্রী হবেন। বাসাইল-সখীপুরের জনগণও এটাই বিশ^াস করেন।

এই আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খান ভোটের মাঠে নীরবে কাজ করে চলেছেন। তাদের মধ্যে কোন্দল নেই। নেই ইমেজ সংকট। ফলে ক্লিন ইমেজের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খানের বাসাইলে রয়েছে জনভিত্তি। তিনি বাসাইল উপজেলা পরিষদের ভাইসচেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি দাড়িপাল্লা মার্কার বিজয় নিশ্চিত করে ইতিহাস রচনা করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন বাসাইল-সখীপুরে।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের বাসাইলে এক লাখ ৫৭ হাজার ৩৯৭ ভোটার ও সখীপুরে দুই লাখ ৫৭ হাজার ৪৩৩ ভোটার রয়েছে। 



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ